Skip to main content

Price Of Knowledge

Nature of Realityর সম্পর্কে ধারণা দিতে গিয়ে গুহায় বন্ধী মানুষের একটা রূপকধর্মী কাহিনী প্লেটো বলেছিলেন যা কিনা ‘The Republic’ –এ পাওয়া যায়।Allegoryটা ছিল এইরকম-
একটা গুহায় কিছু মানুষ আছে যাদের হাত-পা জন্ম হতেই বাঁধা।ফলে তারা গুহার মধ্যে থেকে বের হতে পারে না এবং গুহার বাইরে কি আছে সে সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা নেই।তারা শুধু তাদের সামনের দিকের দেয়ালে তাকিয়ে থাকতে পারে,পেছনে ঘুরে তাকানোও বন্দী অবস্থায় সম্ভব নয়। গুহার বাইরে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় আগুন জ্বলতে থাকায় সেই আগুনের আলো গুহায় পড়ছে এবং বন্দী গুহাবাসী সে আলো সামনের দেয়ালে দেখতে পাচ্ছে।আগুনের সামনে দিয়ে কোন মানুষ বা প্রাণী হেঁটে গেলে তারা শুধু ছায়া দেখতে পাচ্ছে এবং তারা মনে করছে এটাই বাস্তবতা ,এটাই সত্য।তাদের এই রকম মনে করার কারণ হল তাদের পেছনে তাকানোর অক্ষমতা ও প্রকৃত অবস্থা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হওয়া। তাদের বাস্তবতা ভ্রান্ত ধারণায় পূর্ণ। প্লেটো এরপর অসাধারণ একটা কথা বলেছিল।সে বলেছিল গুহাবাসীদের যদি বন্দী অবস্থা থেকে মুক্ত করা হয় এবং তারা যদি জ্বলন্ত আগুনের সামনে যেতে সক্ষমও হয় তবুও তারা তাদের পূর্বের স্থানে ফিরে যেতে চাইবে কষ্ট ও অস্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে। তারা মিথ্যা ছায়ার জগতকেই সত্য বলে বিশ্বাস করতে চাইবে কঠিন বাস্তবতাকে নয়। ফিজিসিস্ট Marcelo Gleiser খুব সুন্দরভাবে এই বিষয়টাকে তুলে ধরেছেন তার The Island of Knowledge বইটাতে-
“ Knowledge comes with a price that not all are willing to pay. To learn takes courage and tolerance,as it may cause an uncomfortable change of perspective.Plato insisted that if the freed chained one had been dragged out of the cave and into the sunlight and hence even close to the truth, he would beg to return to the shadows on the cave wall.” [The Island of Knowledge,chapter-4] জ্ঞান অর্জন করতে হলে এর মূল্যও দিতে হবে। সত্য আপনার মন মত না হলে যদি পেছনে ফিরে তাকান তাহলে আপনি আপনার মিথ্যায় ঘেরা জগতেই ফিরে যাবেন। আমি গুহার বাইরের আলোর উৎসকে ‘তাওহীদের জ্ঞান’ বলি।এই আলোর চারপাশে একটা বৃত্ত আছে যার কেন্দ্র হল আলো।আপনি জ্ঞান অর্জন করতে থাকলে বৃত্তের যে স্থান থেকেই হাঁটা শুরু করেন না কেন অর্জিত জ্ঞান আপনাকে কেন্দ্রের দিকে নিয়ে যাবে কিন্তু যতই আপনি এগোবেন ততই বাঁধার সম্মুখীন হবেন।কারণ জ্ঞানের মূল্য দিতে হলে নিজের মনে যা চায় তা করা যাবে না বরং অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করতে হবে। আর যদি তা না করেন তাহলে আপনি বৃত্তের কেন্দ্রে কখনো যেতে পারবেন না।তখন নিজেকে বন্দীবস্থায় গুহায় আবিষ্কার করবেন এবং গুহাবাসীর মত বুঝতেও পারবেন না যে আপনি বন্ধী। আমার জীবনের উদ্দেশ্যই হল এই কেন্দ্রে যাওয়া।আমি বলি নি যে আমি কেন্দ্রে চলে গিয়েছি।বরং আমি নিজেও মাঝে মাঝে পথ হারিয়ে ফেলি। কেন্দ্রে থাকা অবস্থায় যদি কারো মৃত্যু হয় তাহলে সে নিজেকে একটা গোলকের মাঝে দেখতে পাবে এবং বৃত্ত থেকে মুক্তি পেয়ে নতুন ডাইমেনশনে নিজেকে আবিষ্কার করবে।

Comments

  1. সবগুলোই পড়লাম। দারুণ লিখেছেন। ইনশা-আল্লাহ, আরো লিখবেন।

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

The Origin Of Science

১) বিজ্ঞানের প্রাথমিক বিষয়গুলোর উৎস কি ? সব কিছুরই একটা উৎস আছে । বিজ্ঞানেরও আছে।আপনি যদি ডারউইনিস্টদের মত ভাবেন বিজ্ঞান শুধুমাত্র মানবজাতির জানার আগ্রহ থেকে জন্ম নিয়েছে তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন। আধুনিক বিজ্ঞানের এত উন্নতির পিছনে মূলত দুইটা কারণ আছে।একটা হল মধ্যযুগের মুসলিমদের দ্বারা বিজ্ঞান চর্চা , আরেকটা হল ইউরোপের বিজ্ঞান বিপ্লব যা কিনা শুরু হয়েছিল Giordano Brunoর মাধ্যমে এবং শেষ হয়েছিল নিউটনের Principia Mathematica দিয়ে।এরপর মানবজাতিকে বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করতে আর বেশি কষ্ট করতে হয়নি। এখানে অবাক করার বিষয় হল

The Magnificent Biological Sensor

গত ২২ সেপ্টেম্বর মার্ক ফেসবুকে একটা নোট পাবলিশ করেন “Can we cure diseases in our children’s lifetime?” নামে। আমি নোটটার কিছু অংশ নিয়ে নিজের মতামত দিব যদিও সময় কম থাকায় কিছু পয়েন্ট মিস হতে পারে। ১) “I'm an engineer, and I think this hope is part of the engineering mindset. It's the belief that you can take any system and make it much better -- whether it's code, hardware, biology, a company, an education system, a government – anything.” ‘Biological System’ অন্য যেকোন সিস্টেম থাকা সম্পূর্ণ আলাদা।আপনি অন্যান্য ধরনের ননলিভিং সিস্টেমে যে ধরনের Causation পাবেন বায়োলজিক্যাল সিস্টেমে সে ধরনের Causation পাবেন না ।বায়োলজিক্যাল সিস্টেমে Top-down (eg-Homeostasis) ,bottom-up (eg.gene-protein network) ছাড়াও Middle-out নামেও একটা Causation level দেখা যায়। তার মানে আপনি Multi-level interection systems পাচ্ছেন যে সিস্টেমগুলোতে আবার অসংখ্য ফ্যাক্টরের ইন্টারেকশন হয়। তাই বায়োলজিক্যাল সিস্টেমের সাথে

ভূমিকম্প ও ধর্মীয় বিশ্বাস

  ভূমিকম্প হওয়ার পর কতিপয় নাস্তিক ভ্রাতা তাদের স্বভাবমত বিশ্বাসীদের ব্যংগ করেছিল এই বলে যে , “ পূর্বে মানুষেরা বজ্রপাত দেখলে ভয় পেত এবং বজ্রপাতের মেকানিজম না জানায় তারা অজানা বিষয়গুলোর মেকানিজমের ক্ষেত্রে স্রষ্টার কথা উল্লেখ করত। ” ভূমিকম্পসহ যেকোন ধরনের প্রাকৃতিক ঘটনার মেকানিজম সম্পর্কে আমাদের অনেকের ধারণাই হল যে , প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো কিছু Natural Laws মেনে চলে বলে সেগুলো ঘটে। তবে Plausible ধারণা হল এটাই যে প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো মূলত দুইভাবে ঘটতে পারে - ১ )Directional Mechanism এর মাধ্যমে ২ ) Automatic Mechanism এর মাধ্যমে Deist রা বিশ্বাস করে যে স্রষ্টা Natural Laws কে তার নিজের মত কাজ করতে দেয় , ন্যাচারাল প্রসেসে Intervene করেন না।অর্থাৎ এরা পুরোপুরি Automatic Mechanism এ বিশ্বাস করে। কিন্তু একজন মুসলিম এইধরনের ধারণায় বিশ্বাস করে না। বরং স্রষ্টা যেকোন সময় সৃষ্টিজগতে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলেই আমরা বিশ্বাস করি। এখন এই দুই মেকানিজম সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু ব্যাখ্যা দ...